মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ৪ বছরের শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ
Published : ১৯:৫৩, ৪ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসা ও অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের অভিযোগে সাড়ে চার বছর বয়সী শিশু আভানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ডেঙ্গুর পরীক্ষায় বারবার নেগেটিভ ফল আসার পরও ওই সন্দেহে চিকিৎসা চালানো হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে যথাযথ চিকিৎসা ও অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও অবহেলা করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
শিশুটির বাবা মো. মৃদুল ইসলাম জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সামান্য জ্বর ও পেটে ব্যথা নিয়ে আভানকে ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর চিকিৎসকেরা ডেঙ্গু সন্দেহে চিকিৎসা শুরু করেন। পরিবারের দাবি, হাসপাতালে একাধিকবার রক্ত পরীক্ষা ও ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হলেও প্রতিবারই রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।
সন্তান হারানোর শোকে ভেঙে পড়া মৃদুল ইসলাম বলেন, আভান সুস্থ অবস্থায় হেঁটে হাসপাতালে এসেছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও কয়েক দিন সে খাওয়া-দাওয়া করছিল। পরিবারের কাছে থাকা ভিডিওতে শিশুটিকে খাবার খেতে দেখা যায় বলেও জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসায় ভুলের কারণেই ছেলের মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের দাবি, ডেঙ্গুর সুস্পষ্ট প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকেরা ওই রোগকে কেন্দ্র করেই চিকিৎসা চালিয়ে যান এবং উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করেন।
অবস্থার অবনতি ও স্থানান্তর নিয়ে অভিযোগ
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর হঠাৎ শিশুটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির পালস পাওয়া যাচ্ছে না এবং তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিতে হবে।
এ সময় পরিবার শিশুটিকে অন্য কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ ওঠে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার বিবরণসংবলিত লিখিত কেস সামারি চাওয়া হলেও তা দিতে গড়িমসি করা হয় বলে দাবি পরিবারের।
স্বজনদের আরও অভিযোগ, আইসিইউতে নেওয়ার পরও কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক মুঠোফোনে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা চলছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটির অবস্থার উন্নতির আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত গত ৩ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসার নথি নিয়ে প্রশ্ন
শিশুটির মৃত্যুর পর চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র ও পরীক্ষার রিপোর্ট হস্তান্তর নিয়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। তাঁদের দাবি, পরে পাওয়া মেডিকেল ডকুমেন্টে শিশুটির রক্তে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ও শক সিন্ড্রোমের উল্লেখ ছিল।
আভানের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে শোকাহত পরিবার।
তবে চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসা কিংবা অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রা শিশুটির মৃত্যুর কারণ ছিল কি না, তা নির্ধারণে চিকিৎসার নথি, পরীক্ষার ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত পর্যালোচনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা উচিত।


































