মাত্র ৩৬ রুপিতে দিন কাটানো গুরমিতের এখন ১৬ কোটির বাড়ি
Published : ১২:৫১, ১২ আগস্ট ২০২৬
অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন ছিল ছোটবেলা থেকেই। সেই স্বপ্ন পূরণে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা শেষ করেই মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান গুরমিত চৌধুরী। সঙ্গে ছিল অভিনয়ের আকাঙ্ক্ষা, কিন্তু ছিল না বড় কোনো পরিচয় কিংবা আর্থিক নিরাপত্তা। নতুন শহরে টিকে থাকার সংগ্রামে একসময় প্রতিদিন মাত্র ৩৬ রুপিতে চলতে হয়েছে তাঁকে। অনেক দিন দুপুরের খাবার বলতে ছিল কয়েকটি বিস্কুট।
আজ সেই গুরমিতই ভারতীয় বিনোদন অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত নাম। টেলিভিশন ও ওটিটিতে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি অভিনয় থেকে গড়ে তুলেছেন বড় সম্পদ। মুম্বাইয়ে তাঁর প্রায় ১৬ কোটি রুপির বাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি নিজের স্বপ্নের খামারবাড়ি তৈরির পরিকল্পনাও করছেন তিনি।
স্বপ্নের টানে মুম্বাই
দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা শেষ করেই অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ে চলে আসেন গুরমিত। কিন্তু সেখানে গিয়ে বুঝতে পারেন, স্বপ্ন পূরণের পথ মোটেও সহজ নয়।
মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। এরপর টেলিভিশনে ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলেও অনেক সময় তাঁর নাম পর্যন্ত উল্লেখ করা হতো না। কাজ ছিল অনিয়মিত, আয়ও ছিল সামান্য।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের দরজায় দরজায় ঘুরতেন গুরমিত। হাতে থাকত ছবি ও অভিনয়ের পোর্টফোলিও। অর্থ বাঁচাতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে একাধিকবার বাস বদল করতে হতো। খাবারের খরচও কমাতে হয়েছে। এমন দিন গেছে, যখন দুপুরের খাবার হিসেবে কয়েকটি বিস্কুট খেয়েই দিন পার করেছেন।
সব মিলিয়ে একসময় তাঁর দৈনিক খরচ নেমে এসেছিল মাত্র ৩৬ রুপিতে।
যে ফোনকল বদলে দেয় জীবন
সংগ্রামের সেই সময়েই গুরমিতের জীবনে আসে গুরুত্বপূর্ণ একটি ফোনকল। চলচ্চিত্র নির্মাতা যশ চোপড়া তাঁকে টেলিভিশনে কাজ করার পরামর্শ দেন।
এরপর ধীরে ধীরে অভিনয়ের সুযোগ বাড়তে থাকে। আর একসময় আসে সেই কাজ, যা তাঁকে দর্শকের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত করে—‘রামায়ণ’।
সিরিজটিতে রামের চরিত্রে অভিনয় করে ঘরে ঘরে পরিচিতি পান গুরমিত। এরপর ‘গীত—হুই সবসে পরায়ি’তে মান সিং খুরানা চরিত্রে অভিনয় করে তরুণ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ‘পুনর্বিবাহ’ সিরিয়ালেও তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়।
এর পাশাপাশি নাচের রিয়েলিটি শো ‘ঝলক দিখলা জা’-তেও অংশ নেন তিনি।
বলিউডে প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি
টেলিভিশনে জনপ্রিয়তার পর বড় পর্দায়ও নিজের জায়গা তৈরি করতে চেয়েছিলেন গুরমিত। ২০১৫ সালে ‘খামোশিয়াঁ’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তাঁর।
এরপর ‘মিস্টার এক্স’, ‘ওয়াজাহ তুম হো’, ‘লালি কি শাদি মে লাড্ডু দিওয়ানা’ ও ‘পল্টন’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেন। তাঁর অভিনয় নিয়ে দর্শকের আগ্রহ থাকলেও টেলিভিশনের মতো বড় সাফল্য সিনেমায় পাননি।
ফলে বলিউডের প্রথম সারির নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তাঁর হয়নি। তাঁর ফিল্মোগ্রাফিতে ‘দ্য ওয়াইফ’-এর মতো সিনেমাও রয়েছে।
ওটিটিতে নতুন পরিচয়
সাম্প্রতিক সময়ে ওটিটিতে নতুনভাবে নিজেকে তুলে ধরেছেন গুরমিত। ‘কমান্ডার করণ সাক্সেনা’ সিরিজে নামভূমিকায় অভিনয় করে অ্যাকশন চরিত্রে নিজের সক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি।
টেলিভিশনের রোমান্টিক ও পৌরাণিক চরিত্রের বাইরে এই সিরিজে তাঁকে ভিন্ন ধরনের ভূমিকায় দেখা যায়।
২০২৬ সালে তাঁর হাতে রয়েছে ঐতিহাসিক ও যুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘দ্য ব্যাটল অব শত্রুঘাট’। এতে একজন সাহসী যোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। সিনেমাটিতে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সিদ্ধার্থ নিগম ও আরুশি নিশাঙ্ক। এ ছাড়া মহেশ মাঞ্জরেকর, রাজা মুরাদ ও জরিনা ওয়াহাবও অভিনয় করছেন।
ছবিটি পরিচালনা করছেন শাহিদ কাজমি। গুরমিতের ভাষ্য, সিনেমাটি তাঁর জন্য একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। ভালোবাসা, যুদ্ধ, ইতিহাস ও নাটকের সমন্বয়ে তৈরি এই কাজকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের ভিন্নধর্মী অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।
দেবিনার সঙ্গে পর্দার বাইরেও জনপ্রিয়
অভিনয়ের পাশাপাশি স্ত্রী দেবিনা ব্যানার্জির সঙ্গে গুরমিতের ব্যক্তিজীবনও দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। ২০২৬ সালে দুজনকে ‘তুম হো না’ অনুষ্ঠানে দেখা গেছে।
সেখানে তাঁদের সম্পর্ক, বিয়ে এবং দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সংগ্রাম নিয়ে কথা বলেছেন তারা। ফলে অভিনয়ের বাইরেও টেলিভিশন ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে গুরমিত-দেবিনার উপস্থিতি দর্শকের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করছে।
একসময় মুম্বাইয়ে টিকে থাকতে ৩৬ রুপির বাজেটে দিন কাটানো গুরমিত চৌধুরীর জীবন তাই এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। কঠিন সংগ্রাম পেরিয়ে অভিনয়ে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পাশাপাশি নিজের জন্য তৈরি করেছেন আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এক জীবন।

































