শ্যামনগরে ১২ জনের বিএনপিতে যোগদান
Published : ১২:০৪, ৮ আগস্ট ২০২৬
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নে ১২ জনের বিএনপিতে যোগদানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা দিয়েছে। বিএনপির দাবি, যোগদানকারীরা আগে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ইউনিয়ন জামায়াতের পক্ষ থেকে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়েছে, তাঁদের কেউই দলের ঘোষিত কর্মী ছিলেন না।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ওই ১২ জন বিএনপিতে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামানের কাছ থেকে ফুলের মালা গ্রহণ করে তাঁরা বিএনপিতে যোগদান করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদুল ইসলাম আমজাদ।
বিএনপি নেতা আমজাদুল ইসলাম বলেন, যোগদানকারীরা পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর দাবি, জাতীয় নির্বাচনের সময় তাঁরা জামায়াতের বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে কাজ করেছিলেন এবং বিএনপির প্রার্থীর বিরোধিতা করেছিলেন। সে সময় তাঁরা জামায়াতের কর্মী-সমর্থক হিসেবে মাঠে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে বিএনপির এই দাবি নাকচ করেছেন পদ্মপুকুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইদ্রিস আলী। তিনি বলেন, বিএনপি যাঁদের জামায়াতের কর্মী, সমর্থক ও গাজী নজরুল ইসলামের অনুসারী বলে দাবি করছে, তাঁদের কেউই জামায়াতের ঘোষিত কর্মী নন। এমনকি তাঁদের অধিকাংশকে জামায়াতের সমর্থকও বলা যাবে না।
ইদ্রিস আলীর ভাষ্য, যোগদানকারীদের মধ্যে কেউ অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আবার কেউ নির্বাচনের সময় বিএনপির পক্ষেও কাজ করেছেন। পদ্মপুকুর ইউনিয়নে জামায়াতের শক্ত অবস্থান থাকায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাব ফেলতেই বিএনপি এ ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে যোগদানকারীরা জামায়াত নেতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তাঁদের একজন কামাল হোসেন দাবি করেন, তাঁরা অতীতে জামায়াতের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, তাঁরা জামায়াতে ‘ইয়ানত’ হিসেবে চাঁদা দিয়েছেন, বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং সর্বশেষ নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ভোটও দিয়েছেন।
কামাল হোসেন বলেন, বর্তমানে জামায়াতের কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে তাঁরা দলটি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
আরেক যোগদানকারী আবদুল আজিজও নিজেকে জামায়াতের সাবেক কর্মী দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, তিনি আগে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে বর্তমানে দলটির কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট না হওয়ায় বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা ইদ্রিস আলী বলেন, দল তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াতের জনসমর্থনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও দাবি করেন তিনি।



































